বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
বিনোদন ডেস্ক, ইউনিভার্সেল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম :
ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পদ্মা নদীর মাঝি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় একটি উপন্যাস পদ্মানদীর মাঝি। কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যে বস্তুবাদের প্রভাব লক্ষণীয়। মনুষ্যত্ব ও মানবতাবাদের জয়গানই তার সাহিত্যের মুল উপজীব্য। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’র প্রধান চরিত্র কুবের। এতে আরেকটি চরিত্র হলো কপিলা। কুবের ও কপিলা চরিত্র দুটি এবার আসছে ছোট পর্দায়। ‘এমন যদি হতো’ নামের একটি বিশেষ ধারাবাহিক নাটকে কপিলার চরিত্রে দেখা যাবে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহিকে।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়’র প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটময় মুহূর্তে বাংলা কথা-সাহিত্যে যে কয়েকজন লেখকের হাতে সাহিত্যজগৎে নতুন এক বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর রচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ ইত্যাদি। ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি। সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। দর্শকহৃদয়ে গেঁথে থাকা ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ সিনেমার কুবের ও কপিলা চরিত্র দুটি এখন ছোট পর্দায় আসতে যাচ্ছে। সেখানেই কপিলা চরিত্রে দেখা যাবে মাহিকে। কুবের উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কুবের। কুবের এ উপন্যাসের নায়কও। সংসারের অভাব-দারিদ্র্য ও দুঃখ-বেদনাদগ্ধ কুবের এক দিকে যেমন তার সংসারের অভিভাবক, তেমনি সে চিরপঙ্গু মালার স্বামী, অন্য দিকে সে তার সন্তানদের স্নেহময় পিতা। শহর থেকে দূরে পদ্মানদীর তীরে অবস্থিত অজগ্রাম কেতুপুরের সে বাসিন্দা। পদ্মা নদীর সে এক পাকা মাঝি। সে নদীতে তার অন্যান্য সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে মাছ ধরে, বিশেষত ইলিশ মাছ ধরে সে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে। কপিলা চতুর, চপল ও উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন এক যুবতী। তাঁর আচরণের মধ্যে কিছুটা আদিম ও অসংস্কৃত মনেরও পরিচয় লক্ষণীয়। যা সমাজের চোখে অনেকটাই নিন্দনীয়। কপিলার সতীন মারা গেলে তার স্বামী তাকে আবার নিতে এলে কপিলা অনুগত স্ত্রীর মতো তার সাথে আবার আকুর-টাকুর চলে যায়। এতে তার সংসার ও বিষয়বুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু কুবের যখন চুরির দায় এড়াতে হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপে যেতে মনস্ত করে, তখন কপিলা তার অতীত জীবনের সবকিছু ফেলে সেই যাত্রায় কুবেরে চিরসাথী হয়। আবু হায়াত মাহমুদ ও সাইদুর রহমান রাসেলের পরিচালনায় নাটকটির শুটিং ব্যাংককে শুরু হয়েছে। এই নাটকের বিষয়ে মাহি জানিয়েছেন, একদমই ভিন্নরকম একটি গল্প। চরিত্রগুলো খুবই ইন্টারেস্টিং। এখানে জুটি থাকলেও তাদের একসঙ্গে কোনো দৃশ্য নেই। তিনি আরো জানিয়েছেন, নাটকটিতে আমি কপিলা চরিত্রে কাজ করছি। আর কুবের চরিত্রে রয়েছেন মিশু সাব্বির। আমার বিশ্বাস দর্শকের কাছে নাটকটি ভালো লাগবে। প্রসঙ্গত : পদ্মানদীর মাঝি উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশের বিক্রমপুর-ফরিদপুর অঞ্চল। এই উপন্যাসের দেবীগঞ্জ ও আমিনবাড়ি পদ্মার তীরবর্তী গ্রাম। উপন্যাসে পদ্মার তীর সংলগ্ন কেতুপুর ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের পদ্মার মাঝি ও জেলেদের বিশ্বস্ত জীবনালেখ্য চিত্রিত হয়েছে। পদ্মা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী। এর ভাঙন প্রবণতা ও প্রলয়ংকরী স্বভাবের কারণে একে বলা হয় ‘কীর্তিনাশা’ বা রাক্ষুসী পদ্মা। এ নদীর তীরের নির্দিষ্ট কোন সীমারেখা নেই। শহর থেকে দূরে এ নদী এলাকার কয়েকটি গ্রামের দীন-দরিদ্র জেলে ও মাঝিদের জীবনচিত্র এতে অঙ্কিত হয়েছে। জেলেপাড়ারর মাঝি ও জেলেদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না-অভাব-অভিযোগ – যা কিনা প্রকৃতিগতভাবে সেই জীবনধারায় অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ তা এখানে বিশ্বস্ততার সাথে চিত্রিত হয়েছে। তাদের প্রতিটি দিন কাটে দীনহীন অসহায় আর ক্ষুধা-দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে। দুবেলা দুমুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই যেন তাদের জীবনের পরম আরাধ্য। এটুকু পেলেই তারা খুশি।ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি
‘এমন যদি হতো’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে ‘কুবের’ ও ‘কপিলা’ চরিত্র দুটি থাকবে। এই নাটকেই কপিলা চরিত্রে অভিনয় করছেন মাহি। এ জন্য শুটিংয়েও অংশ নিয়েছেন তিনি।কুবের উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কুবের
একেবারে নিম্নবিত্ত ও নিম্নতম পর্যায়ের মানুষ কুবের। সহজ সরল হওয়ায় তাকে অনেকেই ঠকায়। তার মাঝেও আছে স্বাভাবিক দোষগুণ ও কামনা-বাসনা। তাছাড়া তার আছে একটি রোমান্টিক মন। সে তার স্ত্রী মালার বোন কপিলার প্রতি আদিম আকর্ষণ অনুভব করে। এই কুবের একসময় ঘটি ও টাকা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে জেল খাটার ভয়ে হোসেন মিয়ার কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করে। এক অসংস্কৃত, আদিম ও নিষিদ্ধ ভালোবাসার প্রতি আকৃষ্ট কুবের কপিলাকে নিয়ে চিরকালের জন্য চলে যায় হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপে। পেছনে রেখে যায় তার সমস্ত অতীত জীবন আর পঙ্গু, অসহায় মালা ও তার সন্তান সন্ততিদের।
কপিলা এ উপন্যাসের নায়িকা কপিলা। ব্যক্তিগত পরিচয়ে সে মালার বোন, সাংসারিক পরিচয়ে সে এক জনের স্ত্রী। মালার মত সে পঙ্গু নয়। পুরুষের হৃদয়ে আদিম আবেদন সৃষ্টিকারী কপিলা কুবেরের সাথে যেন উদাসীনভাবে প্রেমের অভিনয় করে যায়। তার স্বামীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় সে বাপের বাড়িতে চলে আসে। বন্যার সময় সে কিছুদিন থাকে কেতুপুরে কুবেরে বাড়িতে।কপিলা চতুর, চপল ও উপস্থিত বুদ্ধিসম্পন্ন এক যুবতী
আলাদীনের দৈত্য চরিত্রে হাজির হবেন অভিনেতা চাষী আলম
আর কুবের চরিত্রটি করছেন মিশু সাব্বির। এটি রচনা করেছেন রাজিবুল ইসলাম রাজিব। ১৯৫২ এন্টারটেইনমেন্ট প্রোডাকশনের ব্যানারে এটি প্রযোজনা করেছেন সাজু মুনতাসীর। সিরিজটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ ও সাইদুর রহমান রাসেল।
প্রযোজক সাজু মুনতাসীর জানান, সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেজের নতুন আইডিয়ার একটি কাজ ‘এমন যদি হতো’। আমরা চেষ্টা করেছি, সময়ের সেরা পরিচালকদের দিয়ে সেরা এবং জনপ্রিয়শিল্পীদের অভিনয় সমৃদ্ধ সিরিজ তৈরি করতে। আশা করছি, দর্শক খুব উপভোগ করবে সিরিজটি।
এ সিরিজে মিশু ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন অভিনেতা ঐতিহাসিক ও অতীতের বিভিন্ন সময়ের জনপ্রিয় চরিত্র দেখা দেবেন। যার মধ্যে আলাদীনের দৈত্য চরিত্রে হাজির হবেন অভিনেতা চাষী আলম।
দেবদাস চরিত্রে দেখা যাবে জোভানকে। ওপার বাংলার বিখ্যাত অভিনেতা ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদলে মুকিত জাকারিয়াকে দেখা যাবে ঢাকার ভানু চরিত্রে। শিগগির মাছরাঙা টিভিতে প্রচার হবে ‘এমন যদি হতো’।
© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.comDesign By Ahmed Jalal.
Leave a Reply